Delhi Journalist Falls in Love with Padma’s Hilsa at Mawa Ghat

ভালোবাসা দিবসে পদ্মার ইলিশ: দিল্লি থেকে মাওয়া ঘাট

M R Jannat Swapon
M R Jannat Swapon
Journalist & Content Creator
- Journalist & Content Creator
3 Min Read

আজ ১৪ ফেব্রুয়ারি, বিশ্ব ভালোবাসা দিবস। কিন্তু আমাদের আজকের প্রেমটা একটু অন্যরকম, রুপালি ইলিশের সাথে! ঘড়িতে তখন দুপুর ১টা। ঢাকার ঐতিহাসিক ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেল থেকে আমরা বের হলাম আমরা ৫ জনের একটি টিম। আমাদের সাথে আছেন বিশেষ অতিথি, ভারতের দিল্লি থেকে আসা নির্বাচন পর্যবেক্ষক ও সিনিয়র সাংবাদিক আশিস গুপ্ত এবং বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের দুজন কর্মকর্তা। আমাদের হাইস মাইক্রোবাসটি যখন ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে নামল, আশিস দা রাস্তার মসৃণতা দেখে রীতিমতো মুগ্ধ। মাত্র ৩০ মিনিটে ৪০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে আমরা পৌঁছে গেলাম পদ্মার কোল ঘেঁষে থাকা মাওয়া ঘাটে।

সরাসরি চলে গেলাম ‘বিক্রমপুর পদ্মা হোটেল এন্ড রেস্টুরেন্টে। সেখানে থরে থরে সাজানো পদ্মার টাটকা ইলিশ। আমরা বেছে নিলাম দুটি পদ্মার ইলিশ। সাথে সেখান  থেকে কিনে নিলাম সরিষার তেল। আশিস দা নিজেই দাঁড়িয়ে থেকে মাছ কাটা দেখলেন। মাথা আর লেজ বাদে হলো মোট ১০ পিস। ১০ পিস মাছ ভাজার পর পিছ হিসেবে খাবার জন্য গেল আর লেজ দুটি তুলে রাখা হলো সেই বিখ্যাত ভর্তার জন্য।

এবার আসি মাওয়া ঘাটের আসল আকর্ষণে—পদ্মার ইলিশের লেজ ভর্তা! প্রথমে মাছের লেজটা মচমচে করে ভেজে নেওয়া হয়। তারপর হামানদিস্তায় পেঁয়াজ, লাল শুকনা মরিচ আর সরিষার তেল দিয়ে পিষে তৈরি হয় এই অতুলনীয় ভর্তা। আশিস দাকে যখন প্রথম লোকমাটা দেওয়া হলো, তার চোখের অভিব্যক্তিই বলে দিচ্ছিল তিনি কতটা অভিভূত। তিনি বলছিলেন, “দিল্লি বা কলকাতায় অনেক ইলিশ খেয়েছি, কিন্তু এই লেজ ভর্তার ঝাঁঝ আর ইলিশের তেলের রাজকীয় সুগন্ধ সম্পূর্ণ আলাদা!” এই ভর্তা যেন পুরো পদ্মার স্বাদকে স্বর্গীয় করে রেখেছে।

টেবিলে একে একে এলো ধোঁয়া ওঠা গরম ভাত, সরিষার তেলে ভাজা ইলিশ, ৩০ টাকা পিসের মচমচে বেগুন ভাজা আর ফ্রি মরিচ ভাজা। সাথে ছিল কাঁচা পেঁয়াজ আর সরিষার তেলের বাহারি ভর্তা। আমরা ৫ জন যখন তৃপ্তি নিয়ে খাওয়া শুরু করলাম, আড্ডায় উঠে এল কলকাতা আর দিল্লির ইলিশের গল্প। আশিস দা অকপটে স্বীকার করলেন, পদ্মার এই টাটকা ইলিশের যে টেক্সচার আর ঘ্রাণ, তার সাথে অন্য কোনো জায়গার ইলিশের তুলনা করা চলে না। তিনি একে “লাইফটাইম এক্সপেরিয়েন্স” হিসেবে বর্ণনা করলেন।

পদ্মা ব্রিজের বিশালতা দেখে আমাদের ভারতীয় মেহমান অবাক হলেন। আমাদের আলোচনায় উঠে এল পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়গুলো। ব্রিজের কারণে যাতায়াত কতটা সহজ হয়েছে এবং প্রকৃতির ওপর এর প্রভাব কী—তা নিয়ে সাংবাদিক হিসেবে তিনি বেশ কৌতূহলী ছিলেন।

বিকেলের মিষ্টি রোদে আবার রওনা হলাম ঢাকার পথে। সন্ধ্যা নামার আগেই আমরা আবার পৌঁছে গেলাম ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে। ভালোবাসা দিবসে দিল্লির একজন সাংবাদিকের মুখে পদ্মার ইলিশের প্রশংসা শুনে আমাদের সফরটা যেন সার্থক হলো।

Share This Article
Leave a Comment