Thailand Travel Vlog

প্রথমবার পাপের শহর ব্যাংককে: ৩ দিন থাইল্যান্ড ভ্রমণের অভিজ্ঞতা 

M R Jannat Swapon
M R Jannat Swapon
Journalist & Content Creator
- Journalist & Content Creator
4 Min Read

ঢাকা এয়ারপোর্ট। যাচ্ছি প্রথমবার থাইল্যান্ডের রাজধানী শহর ব্যাংকক। এটি আমার  প্রথম থাইল্যান্ড যাত্রা।  আজ থেকে শুরু হলো আমার বাজেট ফ্রেন্ডলি ৩ দেশ ভ্রমনের গল্প। ইগেট ব্যবহার করে ইমিগ্রেশন সম্পন্ন করায় ঠিক ১ ঘণ্টা বসিয়ে রাখে বাংলাদেশ ইমিগ্রেশন পুলিশ। পরে তেমন কোনো জিজ্ঞাসাবাদ ছাড়াই আবারো ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্টে সিল নেবার জন্য বিশাল এক লাইনে দাঁড় করিয়ে দেয়। ততক্ষনেও উড়োজাহাজ আমার জন্য অপেক্ষা করছিলো। অবশেষে, আমাকে নিয়েই উড়োজাহাজ রওনা হয় এক সুন্দর পরিপাটি শহর ব্যাংককের উদ্দেশে। 

২০২৩ সালের ২৪শে সেপ্টেম্বর, আমি ঢাকা থেকে ভ্রমন শুরু করি থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককের উদ্দেশ্যে। ডং মিং এয়ারপোর্ট হয়ে, থাই এয়ার এশিয়ার বাজেট ফ্রেন্ডলি আরামদায়ক একটি ফ্লাইটে ব্যাংকক পৌঁছাই। তখন সেখানে ভোর রাত। সকাল বেলা,  ব্যাংককের ব্যস্ততা আর সৌন্দর্য দেখে আমি মুগ্ধ হয়ে গেলাম। পরিষ্কার পরিছন্ন শহর। নেমেই মনটা ভালো হয়ে গেলো। এয়ারপোর্ট থেকে বের হয়ে,  আগে থেকে বুকিং করা হোটেলে চলে যাই। ।

ব্যাংকককে আমার কাছে ব্যাক্তিগত ভাবে পাপের শহর বলে মনে হয়েছে। এখানে, মদ, জুয়া, নারী এবং গাঁজা সহ নিষিদ্ধ সব জিনিষ এখানে হালাল। রাস্তার পাশে পশরা সাজিয়ে বিক্রি করতে দেখা যায় নিষিদ্ধ সব পণ্য।

ব্যাংককের রাতের রঙ্গিন জীবন যেন এক অন্য জগৎ। খাওসান রোডে রাতের খাবার সেরে, নানা দেশের মানুষের সাথে পরিচিত হলাম। রাস্তার দু’পাশে ছোট ছোট দোকান, রেস্তোরাঁ আর বারগুলো সারারাতই খোলা থাকে। এই রাতের ঝলকানি সত্যিই মন মুগ্ধ করার মতো।

খাওসান রোড যেন এক প্রাণবন্ত মেলা, যেখানে নানা ধরনের খাবার, স্যুভেনিয়ার শপ আর হোস্টেল খুঁজে পাবেন। ব্যাকপ্যাকার কিংবা সোলো ট্রাভেলারদের জন্য এটা একটা আদর্শ জায়গা।

ব্যাংককের আরেকটি বিখ্যাত জায়গা হলো সুকুম্ভিত সই এলাকা। এখানেও আমি রাতের জীবন উপভোগ করেছি। এখানকার রাস্তাগুলোতে নানা ধরনের দোকানপাট, রেস্টুরেন্ট আর বার রয়েছে। আপনি যদি রাতের পার্টি আর ডিজে পছন্দ করেন, তাহলে এই জায়গাটি আপনার জন্য একদম পারফেক্ট।

ব্যাংককে থাকাকালীন, আমি বামরুনগ্রাদ আন্তর্জাতিক হাসপাতালও ঘুরে দেখেছি। অত্যাধুনিক সব সুবিধা আর চমৎকার চিকিৎসার জন্য এই হাসপাতাল বিশ্বজুড়ে বিখ্যাত। বাংলাদেশ থেকে প্রতিমাসে কয়েক হাজার মানুষ এখানে চিকিৎসা  সেবা নেয়ার জন্য যান। তাদের মধ্যে রয়েছেন মন্ত্রী, আমলা ও বড় ব্যাবসায়িরা। 

বামরুনগ্রাদ আন্তর্জাতিক হাসপাতালের মেইন গেটের পাশেই মনিকাস কিচেনে ঢুঁ মারতে ভুলবেন না। এখানে আপনি পাবেন একদম ঘরোয়া স্বাদের বাংলাদেশী খাবার।

ব্যাংককে দেখা হয় ট্যুর এশিয়ার সিও খালেদ সাইফুল্যাহ ভাইয়ের সাথে। তিনি ঢাকায় নোয়াখালী কমিউনিটি লিডার। তার সাথে ব্যাংকক কনভেনশন সেন্টারে গিয়েছি। জাতিসংঘের ওয়ার্ল্ড ফুড প্রোগ্রামের একটা মিটিংয়ে অংশ নিয়েছি। সারা বিশ্ব থেকে আসা বিভিন্ন মানুষের সাথে কথা বলে, তাদের অভিজ্ঞতা জানতে পেরেছি। এটা ছিল সত্যিই খুব গুরুত্বপূর্ণ একটা অভিজ্ঞতা।

ব্যাংকক শহর ঘোরার জন্য আমি বোল্ড অ্যাপ ব্যবহার করেছি। এটি উবারের থেকে সাশ্রয়ী।  স্কুটি ভাড়া করেছিলাম। স্কুটিতে ঘুরে বেড়ানোটা ছিল দারুণ। এছাড়াও, ট্যাক্সি আর পাবলিক বাস তো ছিলই।

ব্যাংকক সম্পর্কে কিছু তথ্য আপনাদের জানাতে চাই: ব্যাংকক বিশ্বের অন্যতম জনবহুল শহর। জনসংখ্যা প্রায় ৮০ লাখেরও বেশি। ব্যাংককে প্রতি বছর আনুমানিক দুই কোটি ৩০ লাখ আন্তর্জাতিক পর্যটক বেড়াতে আসেন।  ব্যাংককের খালগুলোকে “এশিয়ার ভেনিস” বলা হয়। বিশ্বের সবচেয়ে বড় বুদ্ধ মূর্তি এখানেই আছে। ব্যাংককের রাতের বাজারগুলো খুবই জনপ্রিয়। এখানকার মন্দিরগুলো সুন্দর স্থাপত্যের উদাহরণ বলা চলে। ব্যাংককের মসলাদার খাবার খুবই সুস্বাদু। বিশ্বজুড়ে বিখ্যাত এই থাই ট্রিট ফুড । এখানকার মানুষ খুবই বন্ধুসুলভ। ব্যাংককের ট্রান্সপোর্ট সিস্টেমও খুব ভালো। আর শপিং করার জন্য তো অসংখ্য জায়গা আছে।

ব্যাংকক ভ্রমণ আমার জন্য একটা অসাধারণ আর অবিস্মরণীয় অভিজ্ঞতা ছিল। আশা করি আপনাদের ভালো লেগেছে।

তিন দিনের এই ভ্রমণ শেষে, সুবর্ণভূমি এয়ারপোর্ট থেকে আমি চলে যাই  সিঙ্গাপুরে। সিঙ্গাপুরের অভিজ্ঞতাও ছিল দারুণ। 

পরের ভিডিও আসছে সিঙ্গাপুর নিয়ে। দেখার আমন্ত্রণ।  ধন্যবাদ!

Share This Article
Leave a Comment